সমেশ চাকমা, প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী সচেতনতামুলক প্রচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। জেলা তথ্য অফিস, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রসার মন্ত্রণালয় কতৃক পল্লী সংগীত অনুষ্ঠান অদ্য ৮ সেপ্টম্বর ২০২৬ খ্রী. দুপুর ১২.৩০ে হতে ১.০০ ঘটিকা রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্পন্ন হয়। এত তথ্য অফিস থেকে কর্মকর্তা বৃন্দ ও যন্ত্রসংগীত শিল্পিরা সচেতনতামূলক সংগীত পরিবেশন করেন।
শিক্ষার্থীদের করতালিতে মুখরিত হয় বিদ্যালল হলরুম। বান্দরবান পার্বত্য জেলায় গ্রামীণ সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য ও সংগীতের চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে “পল্লী সংগীত” অনুষ্ঠান। ছবিতে প্রদর্শিত ব্যানার অনুযায়ী, এটি কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়ন সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের আওতায় আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি।অনুষ্ঠানটির আয়োজক হিসেবে রয়েছে জেলা তথ্য অফিস, বান্দরবান এবং সহযোগিতায় রয়েছে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ ও লোকজ সংস্কৃতির চর্চা ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বাংলার পল্লীজীবন ও মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহ, প্রকৃতি ও সামাজিক জীবনের নানা চিত্র ফুটে ওঠে পল্লী সংগীতে। যুগ যুগ ধরে গ্রামবাংলার মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত এসব গান আমাদের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত জীবনযাত্রার কারণে অনেক লোকজ গান ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই পল্লী সংগীতের মতো সাংস্কৃতিক আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও নারীদের সম্পৃক্ত করে এ ধরনের সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক মূল্যবোধ, নারী উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সহজ ও আনন্দময়ভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা সম্ভব।
![]() |
| শিক্ষক রনি দে, শিক্ষক সুভাষ ব্রত চাকমা ও তথ্য অফিস থেকে অতিথীরা |
এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সচেতনতা সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করার কার্যকর মাধ্যম। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে এসব আয়োজনে সম্পৃক্ত করা হলে তাদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পল্লী সংগীত, লোকগান, লোকনৃত্য ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে একদিকে যেমন স্থানীয় প্রতিভার বিকাশ ঘটবে, অন্যদিকে আমাদের হারিয়ে যেতে বসা লোকঐতিহ্য সংরক্ষণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
![]() |
| শিক্ষার্থীদের একাংশ |




0 Comments